শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে আজ সন্ধ্যায়

শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি, ইনকিলাব মঞ্চ
বিমানবন্দর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সহযোদ্ধারা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও বক্তা শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহটি নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে রাখা হবে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ইনকিলাব মঞ্চ এই তথ্য নিশ্চিত করে। ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক ও শ্রদ্ধার আবহ তৈরি হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টায় বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী বিমানটি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। বিমানবন্দর থেকে শাহবাগগামী সড়কের দুই পাশে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেওয়ার জন্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখা এই রাজনৈতিক কর্মীকে শেষ বিদায় জানাতে সবাই যেন শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখেন।

আরও পড়ুনঃ ৩১ ডিসেম্বর শুরু এসএসসি ফরম পূরণ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, বিমানবন্দর থেকে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েসরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরা শরিফ ওসমান হাদির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে সংগঠনটির নেতারা জানান, এই ক্যাম্পাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি ও গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ফেসবুক পোস্ট

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে শরিফ ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবিচল এই বিপ্লবীকে আল্লাহ শহিদের মর্যাদা দান করেছেন।

পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তায় ভরে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেন এবং তার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।

বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা

শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নামাজ শেষে এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ করেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে।

এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

কে ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি

১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী, বক্তা ও সংগঠক। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

বক্তৃতায় সাবলীলতা, তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং স্পষ্ট অবস্থানের কারণে অল্প সময়েই তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে তিনি জোরালো বক্তব্য রাখতেন।

সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা

শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। তরুণদের বড় একটি অংশ তার প্রার্থীতা ঘোষণাকে বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছিল।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে নির্বাচনের আগেই তার আকস্মিক মৃত্যু দেশবাসীকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া

তার মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে তাকে একজন সাহসী কণ্ঠ, প্রতিবাদী নেতা এবং আপসহীন সংগ্রামী হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি সংগঠনের জন্য নয়, বরং সমগ্র রাজনৈতিক পরিসরের জন্য একটি বড় ক্ষতি। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।

শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, শহিদ হাদির আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে শৃঙ্খলা, সংযম এবং ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি মরদেহ বহন ও শ্রদ্ধা নিবেদন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন হাদি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিফ ওসমান হাদি তার স্বল্প জীবনে যে সাহসী অবস্থান ও সংগ্রামী চেতনার পরিচয় দিয়েছেন, তা তাকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে। তার মৃত্যু নতুন করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আজ তাকে শেষ বিদায় জানাবে দেশবাসী—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহটি সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেওয়া হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে রাখা হবে।

শুক্রবার দেওয়া এক ঘোষণায় ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শাহবাগগামী সড়কের দুই পাশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শরিফ ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ওই পোস্টে তাকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামের একজন সাহসী কণ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া এই রাজনৈতিক কর্মী জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, ছাত্রসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Comment