
এক নজরে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণ ছুটি তালিকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৬৪ দিনের বাৎসরিক ছুটি নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগের বছরের তুলনায় এবার ছুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সরকারি মাধ্যমিক–১ শাখা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় ধর্মীয়, জাতীয় ও ঋতুভিত্তিক ছুটিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৫ সালের তুলনায় ছুটি কমলো ১২ দিন
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়গুলোর মোট ছুটি ছিল ৭৬ দিন। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে ছুটি কমেছে ১২ দিন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, পাঠ্যসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেক সময় পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ছন্দপতন ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে ছুটি কিছুটা কমানোকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’: জনসমর্থনের আহ্বানে পূর্বাচলে তারেক রহমান
সবচেয়ে বড় ছুটি: মার্চে টানা ১৯ দিন
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে মার্চ মাসে।
আগামী ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৯ দিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
- পবিত্র রমজান
- শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথি
- শব-ই-কদর
- জুমাতুল বিদা
- ঈদ-উল-ফিতর
- স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ)
ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস একসঙ্গে পড়ায় এই সময়ে দীর্ঘ ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঈদ-উল-আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ: মে-জুনে ১২ দিন
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত।
এই সময়ের মোট ছুটি ১২ দিন।
বাংলাদেশের আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অভিভাবকরা। প্রচণ্ড গরমের সময় নিয়মিত ক্লাস চালানো কঠিন হওয়ায় এই ছুটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের দিক থেকেও সহায়ক।
দুর্গাপূজায় ৫ দিনের ছুটি
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে—
📅 ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর
⏳ মোট ৫ দিন
এই ছুটি দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।
শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিনে ১০ দিনের ছুটি
বছরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীরা পাবে শীতকালীন অবকাশ।
যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন)সহ শীতকালীন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে—
📅 ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর
⏳ মোট ১০ দিন
এই সময় শিক্ষাবর্ষ শেষের প্রস্তুতি, বার্ষিক পরীক্ষা-পরবর্তী কার্যক্রম এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটি: সংক্ষিপ্ত তালিকা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য ছুটিগুলো হলো—
- ✔️ মার্চে ধর্মীয় ও জাতীয় উপলক্ষে ১৯ দিন
- ✔️ ঈদ-উল-আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ১২ দিন
- ✔️ দুর্গাপূজায় ৫ দিন
- ✔️ শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিনে ১০ দিন
- ✔️ অন্যান্য জাতীয় ও ধর্মীয় দিবস মিলিয়ে মোট ৬৪ দিন
কেন ছুটি কমানো হলো? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাঠ্যসূচি শেষ করতে বিদ্যালয়গুলোকে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে—
- করোনাপরবর্তী শিক্ষা ঘাটতি
- নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন
- দক্ষতা ভিত্তিক শেখার প্রয়োজন
এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ছুটির সংখ্যা কমানো হয়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন,
“শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নিয়মিত পাঠদান জরুরি। তাই ছুটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
ছুটি কমার ঘোষণায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
🔹 শিক্ষার্থীরা বলছে, পড়াশোনার চাপ কিছুটা বাড়বে, তবে নিয়মিত ক্লাস হলে পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ হবে।
🔹 অভিভাবকরা মনে করছেন, কম ছুটি মানেই শিশুদের স্কুলে সময় বাড়বে, যা শৃঙ্খলা ও শেখার জন্য ভালো।
🔹 শিক্ষকরাও বলছেন, দীর্ঘ ছুটি কমলে পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ছুটি কমানো তখনই কার্যকর হবে যখন—
- শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত হবে
- অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ কমানো হবে
- শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে
নচেৎ শুধু ছুটি কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
আরও পড়ুনঃ মেঘনা ব্যাংকে চাকরি নিয়োগ: ঢাকায় ইন্টারনাল অডিটর পদে আবেদন
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ছুটি কাঠামোর আলোকে শিক্ষার্থীদের উচিত—
- শুরু থেকেই পড়াশোনায় নিয়মিত থাকা
- ছুটির সময় রিভিশন ও স্বশিক্ষায় মনোযোগ দেওয়া
- পরীক্ষাভিত্তিক নয়, দক্ষতাভিত্তিক শেখায় অভ্যস্ত হওয়া
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর জন্য ৬৪ দিনের বাৎসরিক ছুটি নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগের বছরের তুলনায় ছুটি কমলেও, শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়—এই নতুন ছুটি কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান কতটা উন্নত হয় এবং শিক্ষার্থীরা কতটা উপকৃত হয়।
| উপলক্ষ | তারিখ | মোট ছুটি |
|---|---|---|
| রমজান, ঈদ-উল-ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস | ৮–২৬ মার্চ | ১৯ দিন |
| ঈদ-উল-আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ | ২৪ মে – ৪ জুন | ১২ দিন |
| শারদীয় দুর্গাপূজা | ১৮–২২ অক্টোবর | ৫ দিন |
| শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন | ২০–২৯ ডিসেম্বর | ১০ দিন |
| অন্যান্য ছুটি | বিভিন্ন | ১৮ দিন |
| মোট | — | ৬৪ দিন |