
দেশের সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে উৎসাহ দিতে প্রচলিত ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র আজ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, প্রতি তিন মাস অন্তর (জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসের শেষ কর্মদিবসে) এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার সংগ্রহে থাকা প্রাইজবন্ডটি বিজয়ীর তালিকায় আছে কি না, তা মিলিয়ে দেখার জন্য নিচের তথ্যগুলো সহায়ক হবে।
১২৩তম ড্র-এর পুরস্কারের কাঠামো (প্রতি সিরিজে)
প্রাইজবন্ডের ড্র ‘একক সাধারণ’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এর অর্থ হলো, ড্র-তে যে নম্বরটি বিজয়ী হিসেবে ওঠে, সেই নম্বরটি প্রতিটি সিরিজের জন্যই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। প্রতিটি সিরিজে মোট ৪৬টি পুরস্কার রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রাইজবন্ড ১২২ তম ড্র ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ফলাফল দেখার নিয়ম, পুরস্কারের তালিকা ও সম্পূর্ণ গাইড
| পুরস্কারের ক্রম | পুরস্কারের পরিমাণ | বিজয়ী সংখ্যা (প্রতি সিরিজে) |
|---|---|---|
| ১ম পুরস্কার | ৬,০০,০০০ টাকা | ১টি |
| ২য় পুরস্কার | ৩,২৫,০০০ টাকা | ১টি |
| ৩য় পুরস্কার | ১,০০,০০০ টাকা | ২টি |
| ৪র্থ পুরস্কার | ৫০,০০০ টাকা | ২টি |
| ৫ম পুরস্কার | ১০,০০০ টাকা | ৪০টি |
ফলাফল দেখার নির্ভরযোগ্য উপায়
ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফলাফল সাধারণত বিকেল নাগাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি নিচের মাধ্যমগুলো থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারেন:
- অনলাইন: বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) অথবা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করা যাবে।
- সংবাদপত্র: ড্র-এর পরদিন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতেও বিস্তারিত ফলাফল ছাপা হয়।
পুরস্কারের দাবি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
প্রাইজবন্ডের পুরস্কার জেতার পর অর্থ দাবির ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ও নিয়ম রয়েছে যা প্রত্যেক বন্ড হোল্ডারের জানা প্রয়োজন:
- ক্রয়ের সময়সীমা: ড্র অনুষ্ঠানের তারিখ থেকে অন্তত ২ মাস আগে কেনা বন্ডগুলোই কেবল ড্র-এর আওতায় আসে।
- ট্যাক্স বা কর: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পুরস্কারের মোট অর্থের ওপর ২০% হারে আয়কর কর্তন করা হয়। অর্থাৎ, আপনি ১ম পুরস্কার ৬ লক্ষ টাকা জিতলে হাতে পাবেন ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
- দাবির সময়সীমা: ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে পুরস্কারের টাকা দাবি করতে হয়। এই সময়ের পর দাবি করলে তা আর গ্রহণ করা হয় না।
প্রাইজবন্ড ড্র সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য - ড্র-এর প্রক্রিয়া: প্রাইজবন্ডের ড্র সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে একক সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়。 এর মানে হলো, ড্র-এর মাধ্যমে যে নম্বরগুলো বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়, সেই একই নম্বরগুলো প্রতিটি সিরিজের (কক, কখ ইত্যাদি) জন্য সমভাবে প্রযোজ্য এবং প্রতিটি সিরিজের সেই নম্বরের বন্ডগুলো পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়。
- পুরস্কারের ধরন ও বাজেট: প্রতিটি ড্র-তে প্রতিটি সিরিজের জন্য মোট ৪৬টি পুরস্কার নির্ধারিত থাকে。 এর মধ্যে ১ম পুরস্কার ৬,০০,০০০ টাকা (১টি), ২য় পুরস্কার ৩,২৫,০০০ টাকা (১টি), ৩য় পুরস্কার ১,০০,০০০ টাকা (২টি), ৪র্থ পুরস্কার ৫০,০০০ টাকা (২টি) এবং ৫ম পুরস্কার ১০,০০০ টাকা (৪০টি) করে প্রদান করা হয়。
- অংশগ্রহণের যোগ্যতা: আপনার কেনা প্রাইজবন্ডটি ড্র-এর আওতায় আসতে হলে সেটি ড্র অনুষ্ঠানের তারিখ থেকে অন্তত ২ মাস আগে কেনা থাকতে হবে。 অর্থাৎ, ৩০ এপ্রিল ২০২৬-এর ড্র-এর জন্য বন্ডটি ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বা তার আগে কেনা আবশ্যক।
- পুরস্কারের দাবি ও ট্যাক্স: সরকার কর্তৃক প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের ওপর ২০% ট্যাক্স বা আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পুরস্কারের অর্থ প্রদানের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে রাখা হয়。 এছাড়া পুরস্কার প্রাপ্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে তা দাবি করতে হয়, নতুবা পুরস্কারের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়。
- নিরাপত্তা ও চেক করার নিয়ম: ড্র অনুষ্ঠানের দিন বিকেলে বা তার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট অথবা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে অফিসিয়াল রেজাল্ট শিট সংগ্রহ করে আপনার বন্ডের নম্বরটি মিলিয়ে দেখতে পারেন。
প্রাইজবন্ডের ফলাফলসমূহ :
বিস্তারিত ফলাফল জানতে ক্লিক করুন ।